নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা এপিস্ট্যাক্সিস এর কারণ এবং এর চিকিৎসা
আজকের আলোচনাটি রয়েছে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা এপিস্ট্যাক্সিস এর কারণ এবং এর চিকিৎসা।আমাদের শরীরের প্রত্যেকটি অঙ্গের মধ্যে নাক খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ আমরা এই নাক দিয়ে শ্বাস নিয়ে থাকি তাই সুস্থ রাখতে হবে। শরীরের অন্যতম অঙ্গ হচ্ছে নাক নাক এর প্রধান কাজ হচ্ছে শ্বাস গ্রহণ করা ও শ্বাস ত্যাগ করা শ্বাস প্রশ্বাস সঠিকভাবেযদি না চলাচল করে তাহলে জীবন বেঁচে থাকা অনেক কষ্টদায়ক তাই শ্বাস প্রশাস ঠিক রয়েছে কিনা ইত্যাদি ।
সম্পর্কে খুবই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নাকে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা দেখা দেয় এই সমস্যা গুলো খুবই মারাত্মক তাই এই সমস্যাগুলো যখন দেখা দেবে তখন ঘরে বসে থেকে বরঞ্চ খুব দ্রুত চিকিৎসা করানোর চেষ্টা করুন। নাকে সমস্যার মধ্যে প্রধান একটি সমস্যা হচ্ছে নাক দিয়ে রক্ত পড়া বা এপিস্ট্যাক্সিস এর কারণ এবং এর চিকিৎসা সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব সকলেই আমাদের পোস্ট এর সঙ্গে থাকো।
নাকের কাজ কি সে সম্পর্কে জেনে নিনঃ
নাকের অনেক ধরনের কাজ বা অনেক ধরনের সমস্যা রয়েছে যেমনঃ
নাক নাক এর প্রধান কারণ হচ্ছে বা প্রধান কাজ হচ্ছে সুন্দর ঘ্রাণ বা সুগন্ধি সুখে নেওয়া।আরো একটি প্রধান কাজ হচ্ছে শ্বাস প্রশ্বাস নেয় আমরা স্বাস্থ্যকর যদি না নিতে পারে সে ক্ষেত্রে আমাদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি রয়েছে তাই নাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে এবং যদি কোন সমস্যা বা কোন রোগে আক্রান্ত থাকেন সেই রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন খুব দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করান।
আরো একটি প্রধান কাজ হচ্ছে শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া আমরা স্বাস্থ্যকর যদি না নিতে পারে সে ক্ষেত্রে আমাদের মৃত্যুর আশঙ্কা বেশি রয়েছে তাই নাক পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা রাখতে হবে এবং যদি কোন সমস্যা বা কোন রোগে আক্রান্ত থাকেন সেই রোগ থেকে কিভাবে মুক্তি পাবেন খুব দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করান
নাকে সরু পথ বাইরের বাতাস শরীরের ভেতরে এবং ভেতরের বাতাস বাইরে পৌঁছাতে সাহায্য করে থাকে।
নাকের ভেতরে শুরুতে অনেক চুল থাকে এদের কাজ হচ্ছে বাইরের আবহাওয়া বাতাসে উড়তে থাকা অপেক্ষাকৃত বড় সাইজের দুলাবালা ফুসফুসের ভেতরে ঢুকতে বাধা দেয়।
নাকের আরো একটি কাজ রয়েছে আমরা যখন হাসিতে এই হাসির মাধ্যমে নাখের ক্ষতিকর পদার্থগুলো বের হয়ে যায়।
নাকের মধ্যে আঠালো, পিচ্ছিল পদার্থ রয়েছে। একে মিউকাস বলে। খুব ছোট ধূলিকণা, ভাসতে থাকা ব্যাকটেরিয়াগুলোকে এই মিউকাস আটকে দেয়। এছাড়া মিউকাসে থাকা ব্যাকটেরিয়া ধ্বংসকারী এনজাইম এদেরকে ধ্বংস করে দেয়।
আমাদের শরীরের তাপমাত্রা আর বাহিরের তাপমাত্রা কিন্তু এক না। স্বাভাবিকভাবে আবহাওয়া ঠান্ডা বাতাস ফুসফুসে পৌঁছালে মানুষ ঠান্ডার সমস্যা নিয়ে খুবই মারাত্মক বিপদে পড়ে থাকেন এবং ভুগে থাকেন। নাক বাহিরের বাতাসকে শরীরের উপযোগী তাপমাত্রায় পরিণত করে যাকে এএয়ার কন্ডিশনিং বলে।
নাকের ভেতর অবস্থিত সাইনাসগুলো শব্দের প্রতিধ্বনিতে সাহায্য করে।
নাক দিয়ে কেন রক্ত পড়ে জেনে নিনঃ
নাক দিয়ে কেন রক্ত পড়ে সে বিষয়গুলো অনেকেই জানেনা। নাক দিয়ে কেন রক্ত পড়ে তার প্রায় 90 পার্সেন্ট কারণ অজানা সবারই বাকি 90% এর মধ্যে নিজের সম্ভাবনা কারণগুলো হতে পারে
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ
অনেক সময় এমন অবস্থা দাঁড়ায় যে হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়া শুরু হয়ে যায় দেখান বড়দের ক্ষেত্রে কাজ করতে গিয়ে বা নানান কাজে ব্যস্ত থাকার মধ্যে হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়ছে আবার বাচ্চারা যখন খেলতে যায় খেলতে গিয়ে হঠাৎ করে নাক দিয়ে রক্ত পড়ে এরকম বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়ে থাকে অনেকের মাঝে সে বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করব।
অল্প পরিমাণে রক্ত পড়ছে আবার মাধ্যমে দেখা যায় যে পদ্ধতিতে ইত্যাদি এই সমস্যাগুলো সমাধান করবেন সে বিষয়ে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে নাক দিয়ে রক্ত পড়া আমরা অনেকেই একটা রোগ হিসেবে মেনে নেবে এটা একটি রোগ হতে পারে নাই চিকিৎসা খুব দ্রুত করাতে হবে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ
- পলিপ
- টিউমার
- নাকি খোঁচানো
- উঁচু স্থান
- শুকনো আবহাওয়া
- ফাংগাল ইনফেকশন
- পুতি রাবারের টুকরা ডাল ইত্যাদি শিশুদের খেলতে খেলতে না ঢুকে যায় এবং সময়মত বের না হওয়ার কারণে যদি ইনফেকশন হয়ে থাকে
- না এক্সিডেন্ট ঘুসি নাকের হাড় ভেঙে যাওয়া ইত্যাদি কেমিক্যালের ধোয়া প্রস্বাসের সাথে টেনে নেওয়া ইত্যাদি
এপিস্ট্যাক্সিস কোথায় হয়ঃ
এপিস্ট্যাক্সিস সবচেয়ে বেশি হয় নাচের নিচের অংশে। একে বলা হয় লিটল’স এরিয়া (Little’s area)। পাঁচটি আর্টারি (artery) পরস্পর একসাথে সংযুক্ত হয়ে এই অংশ তৈরী করে।
সিস্টেমিক কারণ (শরীরের আভ্যন্তরীণ বিষয়ঃ
- উচ্চ রক্তচাপ ব্লাড ক্যান্সার রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়া নিউমোসিস্টেমিক কারণ (শরীরের আভ্যন্তরীণ বিষয়): উচ্চ রক্তচাপ ব্লাড ক্যান্সার রক্ত পড়া বন্ধ না হওয়া নিউমোনিয়া (সবসময় নয়)নিয়া (সবসময় নয়)
এপিস্ট্যাক্সিস হলে যেই লক্ষণগুলো দেখা দেয় সেগুলো জেনে নিনঃ
এপিস্ট্যাক্সিস সমস্যা নিয়ে যে রোগী হাসপাতালে আসলে তার মধ্যে কয়েকটি লক্ষণ দেখা দেয় সেগুলো হচ্ছে যেমনঃ
- নাকের সমস্যা হলে রোগী খুব চিন্তিত থাকে
- হঠাৎ করে নাক দিয়ে প্রচুর পরিমাণে রক্ত বের হয়
- পায়খানার সঙ্গে রক্ত যেতে পারে ও রক্ত বমি করতে পারে
- অতিরিক্ত মাত্রায় রক্তপাতের রোগে-শোকে চলে যাওয়ার মত লক্ষ এসব সমস্যা নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে পারে
এপিস্ট্যাক্সিস হলে রোগী শকে চলে গেলে যে যে লক্ষণ দেখা যাবেঃ
- প্রচুর পরিমাণে ঘাম হওয়া
- রক্তচাপ কমে যাওয়া
- পালস খুব দ্রুত চলবে
- আপনার শরীরে বরফের মত ঠান্ডা লাগার অনুভব করবে
- নাকের এই সমস্যা হলে কি কি পরীক্ষা করাতে হবেঃ
- প্রথমে আপনাকে রক্তের গ্রুপ জানা যদি না থাকে রক্তের গ্রুপ জেনে নিতে হবে
- যে কারণে রোগীর নাক দিয়ে রক্ত পড়া নিয়ে এসেছে অনুযায়ী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে হবে।
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ এবং এর চিকিৎসা
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কিছু সমস্যার দিক বা চিকিৎসার দিক রয়েছে সেগুলো জেনে নিন যেমন
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কিছু চিকিৎসা রয়েছে। যেমনঃ ১) নাক কিছুক্ষণ চেপে ধরে রাখতে হবে। তাতে বন্ধ না হলে নাক বরফ দিয়ে চেপে ধরে রাখতে হবে। ২) জলদি হাসপাতালে নেওয়া ব্যবস্থা করতে হবে। ৩) দ্রুত রোগীর রক্তচাপ, পালস দেখতে হবে। ৪) অ্যানিমিয়া পরীক্ষা করতে হবে। ৫) রোগীর কতটুকু চেতনা আছে বোঝার চেষ্টা করতে হবে। ৬) শক (shock) এর লক্ষণ থাকলে সে অনুযায়ী চিকিৎসা দিতে হবে। প্রয়োজন অনুযায়ী স্যালাইন এবং রক্ত দিতে হবে। তাতেও বন্ধ না হলে নাকের ভেতর গজ দিয়ে ন্যাজাল প্যাক (nasal pack) (গজের ভেতর ওষুধ দিয়ে নাকের ভেতর রাখা) দিতে হবে।
সাথে সাথে অ্যান্টিবায়োটিক দিতে হবে। 8) রোগীকে শান্ত রাখার জন্য অল্প ডোজে ঘুমের ঔষধ দেওয়া যেতে পারে। যদি তাতেও রক্ত বন্ধ না হয় তাহলে রোগীকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যেতে হবে। সম্পূর্ণ অজ্ঞান করে (general anesthesia) যে রক্তনালী দিয়ে রক্ত পড়ছে, তা বন্ধ করে দিতে হবে। মূলত নাক দিয়ে রক্ত পড়া বন্ধের জন্য কয়েকরকম পদ্ধতি আছে, চিকিৎসক তখন রোগীর জন্য যেটা প্রয়োজন সেই পদ্ধতি প্রয়োগ করবেন
নাক দিয়ে রক্ত পড়ার কারণ এবং এর সতর্কতা
- হঠাৎ যদি নাকের রক্ত পড়ে সে ক্ষেত্রে খুব দ্রুত আপনাকে নাক চেপে ধরে বরফ দিতে হবে
- অযথা অকারনে নাকে খোঁচাখুঁচি করবেন না।
- মাকে এ সমস্যা দেখা দিলে যত দ্রুত পারেন ডাক্তারের চিকিৎসা নেওয়ার চেষ্টা করুন
- নাক দিয়ে রক্ত পড়ার সঙ্গে সঙ্গে অবশ্যই আপনাকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে
- আমাদের সকলকে মনে রাখতে হবে যে সব অনুভব বাস সব সমস্যা কখনও ঘরে বসে থেকে সমাধান হয় না বরঞ্চ কি এমন কিছু সমস্যা বা এমন কিছু রোগ রয়েছে যেগুলো খুবই জরুরী সেগুলো অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে নাকের দিকটা দিয়ে অন্য রকম নাকে যদি একটু সমস্যা হয় তবে ঘরে বসে না থেকে অবহেলা না করে খুব দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।